August 13, 2026, 3:25 pm

Latest Post:
হযরত উমর (রা.)-এর পবিত্রময় স্মৃতিচারণ হযরত আবু উবায়দা বিন জাররাহ্ (রা.)-এর পবিত্রময় স্মৃতিচারণের বাকী অংশ মহানবী (সা.)-এর বদরী সাহাবী হযরত আবু উবায়দা বিন জাররাহ্ (রা.)-এর পবিত্রময় স্মৃতিচারণ মহানবী (সা.)-এর বদরী সাহাবী হযরত বিলাল (রা.)-এর পবিত্রময় স্মৃতিচারণের ধারাবাহিকতা মহানবী (সা.)-এর বদরী সাহাবী হযরত বিলাল (রা.)-এর পবিত্রময় স্মৃতিচারণ মহানবী (সা.)-এর বদরী সাহাবীদের (রা.) ধারাবাহিক পবিত্রময় স্মৃতিচারণ মহানবী (সা.)-এর বদরী সাহাবীদের (রা.) ধারাবাহিক পবিত্রময় স্মৃতিচারণ শিয়া ও সুন্নীদের মধ্যকার মতভেদের মীমাংসায় যুগ ইমাম আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধানের সাথে দু’টি ভার্চুয়াল সভার সম্মান লাভ করলো লাজনা ইমাইল্লাহ্ হল্যান্ড মহানবী (সা.)-এর বদরী সাহাবীদের (রা.) ধারাবাহিক পবিত্রময় স্মৃতিচারণ
হযরত ঈসা (আ.) কি নবী করিম সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উম্মতী হতে পারে?

হযরত ঈসা (আ.) কি নবী করিম সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর উম্মতী হতে পারে?

গয়ের আহমদী আলেম-উলামাদের পক্ষ থেকে মানুষদেরকে এটা বলা হয় যে, যখন হযরত ঈসা (আ.) নাযিল হবেন তখন তিনি একজন নবীর মর্যাদা নিয়ে নয় বরং হযরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাধারণ উম্মতী হিসেবেই নাযিল হবেন এবং ইসলাম ধর্মের হুকুম আহকাম মোতাবেক নিজেও আমল করবেন এবং অন্যদেরও এই শরীয়তের উপর আমল করার জন্য নসীহত করতে থাকবেন। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আসলে কি এটা সম্ভব? কুরআন, হাদীস কি এই বিশ্বাস বা নীতির পক্ষে সমর্থন প্রদান করে? এই সর্ম্পকে কুরআন শরীফের আয়াত এবং হযরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস আমাদেরকে এভাবে দিক-নির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, একজন নবীর পক্ষে তার পূর্বের আগমনকারী নবীর উম্মতী হওয়া সম্ভব কিন্তু কখনোই তার নিজের পরে আগমনকারী নবীর উম্মতী হিসেবে আসা সম্ভবপর নয়। যেভাবে নিম্নে বর্ণিত কুরআনের আয়াত হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর ব্যাপারে সুষ্পষ্টরুপে ঘোষণা করছে –
يٰأَهْلَ ٱلْكِتَابِ لِمَ تُحَآجُّونَ فِىۤ إِبْرَاهِيمَ وَمَآ أُنزِلَتِ ٱلتَّورَاةُ وَٱلإنْجِيلُ إِلاَّ مِنْ بَعْدِهِ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ

অর্থাৎ হে আহলে কিতাব! তোমরা ইব্রাহীম সর্ম্পকে কেন ঝগড়া-বিবাদ কর অথচ তওরাত ও ইঞ্জিল তাঁর পরেই নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা কি বিবেক-বুদ্ধি খাটাবে না? (সূরা আলে ইমরান ০৩: ৬৬)
এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে গিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নিয়ম বর্ণনা করছেন যে, উম্মত বা জাতি কোন কিতাব অবতীর্ণ হবার পরেই প্রতিষ্ঠিত হয় বা গঠিত হয়। আর এ বিষয়টি সকলেই অবগত যে, ইহুদী ও খ্রিষ্টান জাতি তওরাত এবং ইঞ্জিল কিতাব অবতীর্ণ হবার পরেই গঠিত হয় বা প্রতিষ্ঠিত হয়। হযরত ইব্রাহীম (আ.) এই উভয় আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হবার পূর্বেই বা আরেকভাবে বললে ইহুদী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার আগেই পৃথিবীতে আগমন করেছেন। আর সেজন্য হযরত ইব্রাহীম (আ.) কে এই উভয় সম্প্রদায়ের কোন একটি সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে ঘোষণা দেয়া যায় না।
আর পবিত্র কুরআনের স্বাক্ষ্য অনুসারে হযরত ইব্রাহীম (আ.) হযরত নূহ (আ.)-এর উম্মত। কুরআন শরীফ এ ব্যাপারে ঘোষণা দিচ্ছে –
وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِ َلإِبْرَاهِيمَ

অর্থাৎ আর নিশ্চয় ইব্রাহীম তো তাহার (নূহর) অনুগামীদের বা দলের অন্তুর্ভুক্ত। (সূরা আস্ সাফফাত ৩৭: ৮৪)
যেহেতু হযরত মূসা এবং হযরত ঈসা (আ.) হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর পরবর্তীতে আগমন করেন এই কারণে হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাদের উম্মতের সদস্য হতে পারেন না কেননা উপরোক্ত আয়াত অনুসারে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে হযরত নূহ (আ.)-এর উম্মতের সদস্য বা অনুগামী আখ্যা হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। কেননা হযরত নূহ (আ.) হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর পূর্বে আগমন করেন। সুতরাং কুরআনের দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তে আসা গেল যে, যেহেতু হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর কুরআন মজীদ নামক আসমানী কিতাব নাযিল হয়েছে এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুগামী ও অনুবর্তী হয়ে তার উম্মতের সদস্যরা মুসলমান জাতিরূপে পরিচিতি পেয়েছে তাই তারপর তথা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-
এর পর তাঁর পূর্বে আগমনকারী কোন নবীর তাঁরই উম্মতের সদস্য হিসেবে আসা কখনো সম্ভবপর নয়।
এখন যদি আমরা হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেই সেখানেও আমরা এর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্য যুক্তি খুঁজে পাই। নিম্নে বর্ণিত হাদীসে হযরত মূসা (আ.)-এর উম্মতী মুহাম্মদীয়ার মাঝে অন্তুর্ভুক্ত হবার ব্যাপারে তাঁর সদিচ্ছা ও আগ্রহের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যাকে আল্লাহ্ তা’লা সেই একই নিয়ম-নীতি ও আইনের কারণে প্রত্যাখান করেছেন যা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে অর্থাৎ মূসা (আ.) হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পূর্বে আগমন করেছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীয়া পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হবার মাধ্যমে হযরত মুসা (আ.) এর প্রায় ২০০০ বছর পর প্রতিষ্ঠা বা গঠিত হবার কথা ছিল এবং সেজন্যই আল্লাহ্ তা’লা হযরত মূসা (আ.)-এর আকুতিপূর্ণ আবেদন গ্রহন করেননি। মূলত এখানেই চিন্তা ও বিবেচনা করার বিষয়, যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা, বাধা ও সমস্যার কারণে হযরত মূসা (আ.)-র পক্ষে হযরত নবী করিম (সা.) এর উম্মতী হওয়া সম্ভব হয় নাই ঠিক একই কারণ, একই প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার কারণে হযরত ঈসা (আ.)-এর পক্ষেও হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ্ (সা.) এর উম্মতী হওয়া সম্ভব নয়।

হযরত আবু নঈম ‘হুলিয়া’ তে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত নবী করিম (সা.) বলেন, ‘‘আল্লাহ্ পাক একবার হযরত মূসা (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে এরশাদ করলেন, তুমি বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দাও, যে ব্যাক্তি আহমদ (সা.) এর প্রতি অবিশ্বাসী অবস্থায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, সে যেই হোক আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব। হযরত মূসা (আ.) আরয করলেন, আহমদ কে? আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করলেন, হে মূসা! আমার ইয্যত ও গৌরবের শপথ! আমি সমস্ত সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত কাউকে সৃষ্টি করিনি। আমি তাঁর নাম আরশের মধ্যে আমার নামের সাথে আসমান ও যমীন এবং চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টির বিশ লক্ষ বছর পূর্বে লিপিবদ্ধ করেছি। আমার ইয্যত ও গৌরবের শপথ, আমার সমস্ত মাখলুকের জন্য জান্নাত হারাম, যতক্ষন মুহাম্মদ (সা) এবং তাঁর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ না করবে।অতঃপর মূসা (আ.) আরয করলেন, হে আল্লাহ্! আমাকে সেই উম্মতের নবী বানিয়ে দাও। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করলেন, সেই উম্মতের নবী তাদের মধ্য থেকেই হবে। মূসা (আ.) পুনরায় আরয করলেন, তবে আমাকে সেই নবীর একজন উম্মত বানিয়ে দাও। আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করলেন, তুমি তার পূর্বেই নবীরূপে আবির্ভূত হয়েছ আর সেই নবী তোমার পরে প্রেরিত হবেন। তবে জান্নাতে তাঁর সঙ্গে তোমাকে একত্রিত করে দেব।”
উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিবেকবান পাঠক সমীপে চিন্তার খোরাক প্রদান করলাম। আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক সত্যান্বেষীকে হেদায়াতের পথে অগ্রসরমান করুন। আমীন।
তথ্যসূত্র:
(১) আল্লামা হযরত জালাল উদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) কর্তৃক রচিত ‘আল খাসায়েসুল কুবরা’, (খন্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ১২)
(২) মোহতরম মাওলানা আশরাফ আলী থানবী সাহেব কর্তৃক রচিত ‘নাশরুত্-তীব ফি যিকরিন্নাবিয়্যীল হাবীব (সা.), ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত মাওলানা আমিনূল ইসলাম অনূদিত, ‘‘যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা”, পৃষ্ঠা নং- ২৩৩-২৩৪)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




This site is not the official site of Ahmadiyya Muslim Jamat. This site has been created by a follower of Hazrat Imam Mahdi (PBUH) only for share the message of Mahdi(pbuh)
আহমদীয়া মুসলিম জামাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Alislam.org